রাজনীতিলিড নিউজ

সকাল থেকে বিএনপির দ্বিতীয় দফার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ

100views

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে টানা ৭২ ঘণ্টা অবরোধ শেষে দুই দিন বিরতির পর রবিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে শুরু হচ্ছে বিএনপির ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার রাজপথ, রেলপথ, নৌপথ অবরোধ। ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশে হামলা ও সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদসহ এক দফা দাবি আদায়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীও রবিবার সকাল ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, এলডিপি, লেবার পার্টিসহ সমমনা দলগুলোও পৃথকভাবে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

এর আগে বিএনপিসহ আন্দোলনরত দলগুলো চলমান আন্দোলনে সাংবাদিক, শ্রমিকসহ নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শুক্রবার দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল করে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, এবারের অবরোধ কর্মসূচি আরও জোরালোভাবে পালন করতে চান তারা।

এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শনিবার হরতাল ডেকেছে দলটি। বিএনপির চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা সকাল-সন্ধ্যা এ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি রবি ও সোমবার কেন্দ্রীয় বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী দুই দিনের অবরোধ কর্মসূচিও চলমান থাকবে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছে দলটি। চট্টগ্রাম জেলা ও নগরে সর্বাত্মকভাবে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্রবাহী ও সাংবাদিকদের বহনকারী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমসহ পাঁচজনকে ডিবি পরিচয়ে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। শনিবার সকালে ভৈরবের একটি বাসা থেকে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তেজগাঁওয়ের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নাজমুল আহসানকে শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে ঢাকা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিষাক্ত নখের আঁচড়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে ছিন্নভিন্ন করতে চাচ্ছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অবরোধ, অগ্নিসন্ত্রাস যারা করবে তাদের কেউ যেন পার না পায়। যদি কেউ ধরা পড়ে তাকে ধরে ওই আগুনে ফেলতে হবে। ভয়ানক অগ্নিকুণ্ডলীতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর হুমকি ভয়ংকর সর্বনাশা হুমকি। এটি সারা জাতির জন্য মহাবিপদ সংকেত।

Leave a Reply